
ভারত ও চীনের সীমান্ত অঞ্চল লাদাখে ফের উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। খবরে প্রকাশ প্রায় দেড় মাস শান্তিপূর্ণ অবস্থার পর লাদাখ সীমান্তে মুখোমুখি ভারত ও চীনের সেনারা। একটি সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি এমন যে পরস্পরকে নিশানা করে বসে রয়েছে দু’দেশের ট্যাঙ্কবাহিনী।
ভারতের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২০) নজিরবিহীন ভাবেই ভারতের বিরুদ্ধে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা লঙ্ঘন করে অনুপ্রবেশের অভিযোগে সরব হয়েছে চীন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, লাদাখ সীমান্তে চীন ফের উস্কানিমূলক সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২০) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্যাংগং লেকের দক্ষিণ প্রান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল চীনা সেনারা। ভারতীয় সেনা তা প্রতিহত করে। কিন্তু চীনা সেনা নিজেদের অবস্থানে বদল ঘটানোর জন্য এগিয়ে এসেছিল।
গত ২৯ ও ৩০ তারিখের মধ্যবর্তী রাতে প্যাংগংয়ের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এই ইস্যুতে দুই দেশের সামরিক স্তরে বৈঠক হয় বলেও জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, ভারত কোনোভাবেই সেনা অবস্থানের বদল চায় না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০ আগস্ট প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে যে এলাকায় ঢুকতে চেয়েছিল চীনা সেনারা, সেই এলাকার দখল নিয়েছে ভারত। প্যাংগং লেকের দক্ষিণ প্রান্তের ওপর এখন উড়ছে ভারতীয় পতাকা।
আনন্দবাজার আরো জানিয়েছে, লাদাখের পরিস্থিতি নিয়ে আজ বৈঠকে বসেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়ত, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, সেনাপ্রধান এম এম নরবণে।
সূত্র মতে, শীত শুরু হওয়ার আগে চিনের সেনা যেভাবে নতুন করে আগ্রাসী মনোভাব দেখাতে শুরু করেছে, কীভাবে তা প্রতিহত করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী কয়েকদিনের মধ্যে লাদাখে যেতে পারেন বলেও জানা গেছে।
এ দিকে, লাদাখে ভারতীয় সেনার গতিবিধি দেখে সরব হয়েছে দিল্লিতে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস। গত ৩১ আগস্ট রাতে ভারতীয় সেনা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে বলে দাবি করেন চিনের মুখপাত্র জি রং।
তিনি জানান, সীমান্ত সমঝোতা ভেঙে ভারতীয় সেনা প্যাংগং লেকের দক্ষিণে রেকিং পাসের কাছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে। ফলে সীমান্তে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
তাঁর দাবি, ভারতের ওই গতিবিধির ফলে চীনের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকার শান্তি নষ্ট হয়েছে।
চীনের এই মুখপাত্রের মতে, যে সেনারা অনুপ্রবেশ করেছে, পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ার আগে তাঁদের প্রত্যাহার করে নিক ভারত। এর জবাবও দিয়েছে নয়াদিল্লি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, শনিবার মধ্যরাতে চীনা সেনাদের এলাকা দখলের চেষ্টা অঙ্কুরেই ভেস্তে দেওয়া হয়।
—ডেস্ক শুভবিশ্ব। সূত্র : এনডিটিভি, আনন্দবাজার
সংশ্লিষ্ট আরো লেখা
ত্রাণ নিয়ে মৌসুনি দ্বীপে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্ররা
বাগদাদে করোনা হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ৮২ জনের মৃত্যু
কবি শঙ্খ ঘোষের জীবনাবসান